বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমির বুক চিরে চলছে ভেকু মেশিন, আর সেই মাটি বিক্রি হচ্ছে অবাধে। কুমিল্লার বরুড়ায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি বরুড়া শাখার কাছে বন্ধক রাখা জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে বন্ধকী সম্পত্তির মূল্য মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে এবং ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণ, বন্ধক ৫০৫ শতক জমি
চিঠি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের বরুড়া শাখার গ্রাহক মো. বায়েজিদ (ইয়াসিন) তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স শাকিল এন্টারপ্রাইজ এন্ড অটো স মিল’-এর অনুকূলে ১১ কোটি টাকা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স মক্কা টিম্বার এন্ড সাপ্লাইয়ার্স’-এর অনুকূলে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, মোট ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ঋণ নেন।
এই ঋণের বিপরীতে বড়হাতুয়া, গহীন খালী, দক্ষিণ পীহর, উত্তর লতিফপুর, আদমসার, বড়হরিপুর ও শাসনগাছা মৌজায় মোট ৫০৫ দশমিক ৯৩ শতক জমি ব্যাংকে বন্ধক রাখা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রাহক বর্তমানে খেলাপি ঋণগ্রহীতা ও পলাতক। তাঁর বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলাসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে বন্ধকী সম্পত্তি দেখতে যান। সেখানে তাঁরা দেখতে পান, বড়হাতুয়া মৌজায় শামীম ব্রিকস–সংলগ্ন বিভিন্ন দাগে থাকা ১১৪ দশমিক ২০ শতক বন্ধকী জমিতে ব্যাংকের সাইনবোর্ড ফেলে দিয়েছে একদল ভূমিদস্যু। অভিযোগ অনুযায়ী, আক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ভেকু মেশিন দিয়ে বেআইনিভাবে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যাংকের ভাষ্য, অবাধে মাটি কাটার ফলে জমিগুলো বিশাল গর্তে পরিণত হচ্ছে। এতে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে এবং ব্যাংক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভূমিদস্যুদের হাত থেকে সম্পত্তি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি কাটা ও বিক্রি অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন ব্যাংকের বরুড়া শাখার ভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মতিন পাটোয়ারী। আবেদনের অনুলিপি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন একান্ত জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বন্ধকী সম্পত্তি রক্ষা করবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।