বরুড়াতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও তরিকত ফেডারেশনের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান

 

মোঃ আনজার শাহ:

কুমিল্লার বরুড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং তরিকত ফেডারেশনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের দলে স্বাগত জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।

ভিন্ন মতের ভালো মানুষদের জন্য দলের দরজা খোলা:
যোগদানকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের সম্মান ও নেতৃত্বকে সামনে রেখে তাঁদের এগিয়ে চলতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন, নতুন যোগদানকারীরা কোথাও অসম্মানিত হলে সেটি তাঁকেই অসম্মান করার শামিল হবে। “আমার তরফ থেকে আপনারা সর্বদা সম্মান পাবেন। কোনো সুবিধা-অসুবিধা হলে দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র নেতাদের জানাবেন। কেউ অন্যায় বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে আমাদের জানাবেন,” বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ভিন্ন মতে বিশ্বাসী হলেও সমাজে যাঁদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, সেসব ভালো মানুষকে দলে আনতেই তাঁর এই প্রয়াস। “আপনাদের অতীত খুব কলঙ্কিত হলে আমি হয়তো যোগ দিতে বলতাম না। মানুষের জন্য কাজ করার যে সুযোগ ও সম্মান আপনারা চান, তা আমাদের দলে পাবেন। আমাদের দলে পারস্পরিক মান্যতা আছে, আমরা মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করি,” যোগ করেন তিনি। আগামীতে ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কর্মকাণ্ডে নবাগতদের সামনের সারিতে রাখা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
গত দুই বছরে বিরোধী দলের সঙ্গেও সহমতের ভিত্তিতে চলার চেষ্টা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ উচ্ছৃঙ্খলতা করলে তার কোনো ছাড় নেই। তবে সবাই শান্তিতে থাকলে আমরাও শান্তিতে থাকব।”

দেশ বিপদে পড়লেই এগিয়ে এসেছে জিয়া পরিবার:
বক্তব্যে বিএনপির ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যখনই দেশ বিপদে পড়েছে, জিয়া পরিবার দেশকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতি যখন বিভ্রান্ত, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তাঁর দেখানো পথেই আজও দেশের অর্থনীতি চলছে বলে মন্ত্রী দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, গার্মেন্টস ও প্রবাসী আয়ের যে দুয়ার আজ অর্থনীতির মূল ভিত্তি, তা খুলে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানই।

গণতন্ত্র বিপন্ন হলে দেশনেত্রী :
খালেদা জিয়া ১৯৮২ সাল থেকে লড়াই করে ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্রের চর্চা ছিল বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর, বিশেষ করে ২০০৮-এর পর, সবকিছু নষ্ট হয়ে যায় এবং গত ১৬-১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। জুলাইয়ের আন্দোলনে ১৬০০ জন শহীদ ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা বিতাড়িত হয়েছেন এবং গণতন্ত্র ফিরে এসেছে বলেও তিনি বলেন। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে সঠিক পথে চালানোর চেষ্টা করছে।

বিদ্যুৎ সংকটে আশ্বাস: দু-তিন মাসেই সহনীয়:
জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষ কষ্টে আছে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারে এবং গ্যাসের দাম ৩০-৩২ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে চাইলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে প্রধানমন্ত্রী সারাক্ষণ কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
প্রতি উপজেলায় ১৫০ শয্যার হাসপাতাল, প্রথমবার নকলমুক্ত পরীক্ষা
মন্ত্রী জানান, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে গরিব মানুষকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা বা ঢাকায় ছুটতে হবে না; ৯০ শতাংশ রোগের চিকিৎসা উপজেলাতেই মিলবে। বরুড়ায় আগামী বছরের মধ্যেই হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং এই সরকারের মেয়াদেই প্রতিটি উপজেলায় কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বছর প্রথমবারের মতো নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের আগে সকালে তিনি উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যাতে শিক্ষার মান বাড়ে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করুন:
বরুড়ার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ কাজ শেষ হবে। বিনিময়ে তিনি সবার কাছে একটাই আবদার রাখেন, সমাজকে শান্ত ও অন্যায়মুক্ত রাখতে হবে। “মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করুন। সমাজে কেউ অন্যায় করলে প্রতিবাদ করুন। আমি সর্বাত্মকভাবে আপনাদের পাশে থাকব, প্রশাসনও সহযোগিতা করবে,” বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *