মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৭ বছর বয়সী মাদরাসা ছাত্র সৈকত হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুটিকে বলাৎকারের পর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, গত ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বয়স ১৭ বছরের নিচে হওয়ায় আইনগত কারণে তার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ ও একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত কিশোর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডে একমাত্র ওই কিশোরই জড়িত।
এর আগে, সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উত্তর নরসিংপুর এলাকার বক্তাবলী সড়কে হাসেম স্পিনিং মিলের পাশে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে সৈকতের মাথা থেতলানো রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সৈকত গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা আঞ্জুর ছেলে। সে স্থানীয় মাহমুদিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিল। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মা গার্মেন্টস কর্মী। পরিবারটি নরসিংপুর এলাকায় হাসেম স্পিনিং মিল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল দুপুরের পর থেকে সৈকত নিখোঁজ ছিল। আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার হলে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্তে একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।