বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সালথার ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সমর্থকদের উদ্দেশে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’—এমন বক্তব্য দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে তাকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’—এ ধরনের বক্তব্য দিতে দেখা যায়। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪ ধারার ৪(খ) উপধারায় বর্ণিত ইউনিয়ন পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হানিকর কার্যকলাপ, অসদাচরণ বা নৈতিক স্খলনজনিত শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

জানা যায়, সম্প্রতি সালথার উজিরপুর বাজারে একটি সভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে অস্ত্র তৈরির কথা বলতে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তার দায় নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।

ভিডিওতে রফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘বলছি যে কোনো কিছু যদি করতে হয়, আমাদের না জানাইয়া যদি করো এই দায়ভার তোমাদের। এটা আমরা কোনো লিডাররা নেব না। আর আমাদের নেতৃত্বে যদি কিছু হয় দুইডা মার্ডার হোক, পাঁচটা মার্ডার হোক ওই দায়ভার আমাদের।’

সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একতা মেনে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাইতে হবে। আমাদের হুকুম দেওয়া থাকল। আমাদের হুকুমের আশায় থাকবেন না। আমাদের হুকুম রাতদিন ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’

তবে এর আগে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা। তার দাবি, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে এবং সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামকে জানানো হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *