নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বিশ্বনাথে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি সড়কের ওপর গেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পরও রাতের আঁধারে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার দুটি পাকা পিলার নির্মাণ করে সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর নামে নামফলক স্থাপন করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গত বুধবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহরমপুর গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সাজ্জাদ আলী ইউএনও জাহিদ-বিন-কাশেমের কাছে দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিশ্বনাথ কলেজ রোড ও বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-বাইপাস সড়কসংলগ্ন তিন রাস্তার মুখে মহরমপুর বৈদ্যকাপন থেকে ভোগশাইল সড়কের সংযোগস্থলে সরকারি রাস্তার ওপর গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বৈদ্যকাপন গ্রামের মৃত আরশ আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ ও আব্দুল করিম, একই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল আহাদ এবং হারুন খানের ছেলে আজমান খানসহ আরও কয়েকজন রাতের আঁধারে সরকারি সড়কের ওপর গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন সাজ্জাদ আলী।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় নির্মাণাধীন প্রায় চার ফুট উচ্চতার একটি পিলার ভেঙে দেওয়া হয় এবং সরকারি সড়কের ওপর গেট নির্মাণ না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগকারীর দাবি, ওই নিষেধ সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে রাতের আঁধারে সরকারি সড়কের ওপর প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার দুটি পাকা পিলার নির্মাণ করেন। পরে সেখানে ‘স্বাগতম বৈদ্যকাপন’ লেখা এবং ‘ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক সংসদ সদস্য-সিলেট-২, স্থাপিত ২০০৫ ইং’ উল্লেখ করে একটি নামফলক স্থাপন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর নামে ওই নামফলক স্থাপন এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে সংশ্লিষ্টরা নামফলক পরিবর্তন করে ‘সাবেক’ শব্দটি বাদ দিয়ে পুনরায় আরেকটি নামফলক স্থাপন করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
সাজ্জাদ আলী আরও অভিযোগ করেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তার নিজস্ব ভূমির ওপর একটি পিলার এবং কারিকোনা গ্রামের মতছির আলীর ভূমির ওপর আরেকটি পিলার নির্মাণ করে গেট তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৮ জুলাই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নিয়ে ওসমানীনগর সার্কেল কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। পাশাপাশি পূর্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী গেট নির্মাণে নিষেধ করেছিলেন—এ সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, বৈঠকের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কোনো লিখিত নোটিশ তাদের হাতে না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সরকারি সড়কের ওপর গেট নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সরকারি নথি সংগ্রহ করে বিষয়টি যাচাই এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযোগে উত্থাপিত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি। সরকারি সড়কের ওপর গেট নির্মাণের অনুমতি ছিল কি না এবং পূর্বের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।