নিজস্ব প্রতিবেদক:
‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের সঙ্গে রিল তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বিউটি রানী পাল সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিউটি রানী পাল নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ জানান, জেলার সব উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্যে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিউটি রানী পালও রয়েছেন।
জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অন্য শিক্ষকেরা হলেন—সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদের সই করা স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরদিন যাচাই-বাছাই কমিটির সভা শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে সেই তালিকায় বিউটি রানী পালের নাম নেই।
এর আগে গত ২৩ জুলাই বিউটি রানী পাল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল শুরু হয়। পরে তিনি ভিডিওটি সরিয়ে নেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী শিক্ষকরা একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করতে শুরু করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও একইভাবে ভিডিও প্রকাশ করেন। এভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে।
বিউটি রানী পাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। এর আগেও তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের উপযোগী বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে তিনি যুক্ত রয়েছেন। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শরীরচর্চা, নাচের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন বিষয় শেখানো, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণসহ নানা কার্যক্রমের ভিডিও রয়েছে।