ভালোবাসার বিয়ে, ছয় মাস না যেতেই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা, এরপর সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল রাফিয়া আক্তার মুন্নির। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই রংপুর মহানগরীর পূর্ব কামাল কাছনা এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর মুন্নিকে হত্যা করে মরদেহ ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী পারভেজ মিয়াকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নির মা রুমানা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে একই এলাকার মৃত মজিবর রহমানের ছেলে পারভেজ মিয়ার সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। প্রেমের সম্পর্ক থেকেই তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই ৮ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামী পারভেজ, শাশুড়ি পারুল বেগম (৬০) ও ভাসুর ফারুক মিয়া (৪২) মুন্নিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুমানা খাতুন বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লোকমুখে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে মুন্নির ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার খবর পান তাঁরা। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, তিন কক্ষের ঘরের মূল দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে মুন্নিকে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর পা মেঝেতে লেগে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় তাঁর জামাতা পারভেজ পাশের একটি ঘরে মোবাইলে টিকটক দেখছিলেন বলে অভিযোগ করেন মুন্নির মা।

মুন্নির বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করার মতো ছিল না। তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। স্থানীয় লোকজনও তখন একই ধরনের কথা বলছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মুন্নির বাবার বড় ভাই আশরাফ উদ্দিন ও দাদা মমতাজ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলাটি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে এবং টাকা লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের। তিনি বলেন, বাদী যে এজাহার দিয়েছেন, তার ভিত্তিতেই মামলার ধারা দেওয়া হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়। প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *