ভুয়া রায় দিয়ে জমি সংশোধনের চেষ্টা জরিমানা ও কারাদণ্ড

মোঃ মাহমুদুল হাসান:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আদালতের ভুয়া রায় ও ডিক্রির কপি দাখিল করে জমির রেকর্ড সংশোধনের চেষ্টা করার অপরাধে মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ২০০ টাকা অর্থদণ্ড ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সালমা রুমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় এ দণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর গ্রামের আখতার উদ্দিনের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার উপজেলা ভূমি অফিসে একটি বিবিধ মামলার শুনানি চলাকালে বাদীপক্ষের লোকজন আদালতের একটি রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে ১৪৩ ধারামতে জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তবে দাখিল করা কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায় ও ডিক্রির ফটোকপিগুলো সন্দেহজনক বলে মনে করেন। বিশেষ করে বিচারকের স্বাক্ষর নকল বলে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলার বাদী রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি দাখিল করা রায় ও ডিক্রির কপি সঠিক নয় বলে স্বীকার করেন।

পরে মামলার বিবাদীপক্ষের দাখিল করা আদালতের মূল রায় ও ডিক্রি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট আদালত মূল মামলাটি খারিজ করেছিলেন। অথচ রফিকুল ইসলাম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজেই একটি একতরফা ভুয়া রায়ের কপি তৈরি করে সেটিকে আদালতের রায় হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ওই কাগজের ভিত্তিতে জমির রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। শুনানিকালে অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ড ঘোষণার পর ভূমি অফিসে উপস্থিত সেবাগ্রহীতাদের সতর্ক করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা। তিনি জানান, ভুয়া বা জাল কাগজপত্র দিয়ে নামজারি কিংবা মিস কেসের আবেদন করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা রুমা গণমাধ্যমকে বলেন, ভূমিসেবা সহজীকরণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসের অভিযান নিয়মিত চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *