কাজী দেলোয়ার হোসেন:
সাভারের নবীনগর এলাকার কুরগাঁওয়ে অবস্থিত দারুত তাকওয়া মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে আহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটিতে পড়াশোনা করা এক শিশুশিক্ষার্থীকে সম্প্রতি ওই শিক্ষক শাসনের নামে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটির ওপর অমানবিক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শিশুটি শারীরিকভাবে আহত হয় এবং ঘটনার পর থেকে তার মধ্যে আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষার্থীর পরিবার, স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হলে একপর্যায়ে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে আশুলিয়া থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শিশুদের শাসনের নামে কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে মাদ্রাসায় অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের ধর্মীয়, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠান। সেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিশুদের ভুলত্রুটি হলে তাদের বোঝানোর মাধ্যমে সংশোধন করা উচিত। কিন্তু শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে কোনো শিশুকে শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। বরং এ ধরনের আচরণ শিশুর মনে দীর্ঘমেয়াদি ভয় ও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক হওয়া উচিত আস্থা, স্নেহ ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে। কিন্তু কোনো শিক্ষক যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে মারধর করেন, তাহলে সেটি শুধু শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, বরং শিশুর নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়েও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ, মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
এদিকে কুরগাঁওয়ের দারুত তাকওয়া মাদ্রাসার এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে শিক্ষার নামে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে না হয়, সে জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি, শিক্ষকদের আচরণবিধি মেনে চলা এবং প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।