মেঘনা আবাসিক হোটেলে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি, ম্যানেজার ফরিদ এক নম্বর আসামি, যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়মিত মামলা

এ এম এম আহসান: 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অবস্থিত মেঘনা আবাসিক হোটেলে এক কর্মচারীকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধর, গুরুতর জখম ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে হোটেলটির ম্যানেজার মোঃ ফরিদকে এক নম্বর আসামি করে ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ হাসান (৩৮) হোটেল নিউ মেঘনা (আবাসিক)-এ কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে আটক ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে তাকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার কাছে মেঘনা আবাসিক হোটেলের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ম্যানেজার মোঃ ফরিদসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা। কক্ষে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, লোহার রড, লাঠি ও পাইপ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে আঘাত করা হয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতের তালু ফেটে যায়। পরে হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন চালানো হয়।

পরদিন ১২ জানুয়ারি ২০২৬ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় এসে তার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্লাস দিয়ে আঘাত করে তার উপরের সামনের ছয়টি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়, যা এজাহারে গুরুতর জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন (মূল্য আনুমানিক ৩০ হাজার ৫৭০ টাকা), একটি ১ ভরি ৩ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে জোরপূর্বক নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা নিয়মিত মামলায় বেআইনি জনতা গঠন, আটক রেখে মারধর, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় হোটেল ম্যানেজার মোঃ ফরিদকে এক নম্বর আসামি করে আরও ১০/১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্বেগ

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বহু আবাসিক হোটেল কার্যত অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হচ্ছে। এসব হোটেলে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চললেও নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ ধরনের আবাসিক হোটেলের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *