মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক শেখ জিয়াউর রহমান স্থানীয় একটি মাদ্রাসার উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপজেলার গাওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শেখ জিয়াউর রহমান সারুলিয়া মাদ্রাসার অবকাঠামো ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে এক বিঘা জমি আনুষ্ঠানিকভাবে দান করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শিক্ষার প্রসারে সামাজিক অঙ্গীকার:
জমি হস্তান্তরের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শেখ জিয়াউর রহমান বলেন, “শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড, আর ধর্মীয় শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটলে সমাজ আলোকিত হবে। সারুলিয়া মাদ্রাসা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে দ্বীনি শিক্ষার এক আস্থার প্রতীক। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও স্থানাভাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। একজন নাগরিক হিসেবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অংশ নিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো সমাজ বা এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি সেখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থাকে। তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের সকলের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানো।” সারুলিয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে ভবিষ্যতে সকল ধরনের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে পাশে থাকার বলিষ্ঠ আশ্বাসও দেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা:
মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী শেখ জিয়াউর রহমানের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে যেখানে জমির মূল্য আকাশচুম্বী, সেখানে নিঃস্বার্থভাবে এক বিঘা জমি দান করা সত্যিই বিরল। তাঁর এই দান মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
“শেখ জিয়াউর রহমানের এই উদ্যোগ মাদ্রাসার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেবে। আমরা তাঁর এই ত্যাগ ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখি।” — স্থানীয় এক অভিভাবক
সারুলিয়া মাদ্রাসার পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষ শেখ জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এলাকাবাসীর মতে, যুবদল নেতা জিয়াউর রহমানের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড গাওলা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও সুসংহত করবে। মাদ্রাসার নতুন জমিতে খুব শীঘ্রই একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।