স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ডেমরা এলাকার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ডগাইর ৫১১ গ্রিন সিটি এলাকায় রাজউকের ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে অগ্রদূত রিয়েল এস্টেটের একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিদ্যমান ভবন নির্মাণ বিধিমালার একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা, অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পজনিত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে চারপাশে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গা (সেটব্যাক) রাখা হয়নি। পাশাপাশি ভবনের চারদিকে এমনভাবে অন্য স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে যে, আলো-বাতাস চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প কিংবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধারকারী যানবাহন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে ভবনের চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নির্মাণকাজের যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, তার অনেকগুলোই মানা হয়নি। এতে স্থানীয়দের দুর্ভোগের পাশাপাশি পাশের ভবনগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভবনটির নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশ্যে কোনো প্রামাণ্য নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ বিষয়ে রাজউকের জোন-৬-এর সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। ভবনটি পরিদর্শন করে যদি অনুমোদিত নকশা বা ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজধানীতে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সেটব্যাক, উন্মুক্ত স্থান, অগ্নিনিরাপত্তা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান থাকলেও অনেক ডেভেলপার তা উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে ভবনের প্রতিটি অংশ ব্যবহার করেন। এতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অগ্রদূত রিয়েল এস্টেটের এই প্রকল্পের অনুমোদন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে এমন আলোচনা রয়েছে যে, কোম্পানিটির কয়েকজন শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এছাড়া ভবনটিতে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি এবং অগ্রদূত রিয়েল এস্টেটের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে পরিকল্পনাবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। ভবনের চারপাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকলে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প বা অন্য যেকোনো দুর্যোগে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিবেশগত সমস্যাও সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের বৈধতা এবং ইমারত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, ডেমরার দক্ষিণ ডগাইর ৫১১ গ্রিন সিটি এলাকায় একই ধরনের আরও কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবনের নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়েও ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।