কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত রাফি স্মৃতি মহানগর জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-১৮) ক্রিকেট লীগ ২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইন্স মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ফাইনাল খেলায় শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমিকে ১০৪ রানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাদশা মিয়া ক্রিকেট একাডেমি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার জনাব হাসান মো. শওকত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি ডেইলি পিপলস ভিউ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং প্রয়াত রাফির পিতা জনাব ওসমান গণি মনসুর। ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের রাফি স্মৃতি মহানগর জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-১৮) ক্রিকেট লীগে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে। দলগুলোকে আটটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতিভা ও ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিভিন্ন ম্যাচ শেষে ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাদশা মিয়া ক্রিকেট একাডেমি ও শতাব্দী ক্রিকেট একাডেমি। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ১০৪ রানের ব্যবধানে জয় নিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাদশা মিয়া ক্রিকেট একাডেমি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিএমপি কমিশনার জনাব হাসান মো. শওকত আলী বলেন, খেলাধুলা তরুণ প্রজন্মকে শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দলগত চেতনা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে। একটি সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন এবং গঠনমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়াত রাফির স্মৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এ ক্রিকেট লীগ তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি আশাবাদী। এ ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে। তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং ক্রীড়াঙ্গনে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলে। তাই তরুণদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি টুর্নামেন্টের আয়োজক, অংশগ্রহণকারী দল, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলসহ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়কে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) জনাব হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) জনাব মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মহানগর ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি মো. ইবাদুল হক লুলু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ নওশাদ আলম চৌধুরীসহ সংস্থার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক, কোচ, খেলোয়াড়, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের উপস্থিতিতে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাফি স্মৃতি মহানগর জুনিয়র ক্রিকেট লীগের মতো আয়োজন চট্টগ্রামের তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতিভা বিকাশ, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি এবং ক্রীড়াঙ্গনে নতুন খেলোয়াড় তুলে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।