আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি সামরিক গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী এ তথ্য জানিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে সারী বলেন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট সময়, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি হুথি মুখপাত্র।
আনাদোলু এজেন্সির হিসাব অনুযায়ী, সরকারি বিবৃতির ভিত্তিতে ৫ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় মোট ২০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কারণে বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে। সেখানে পাঁচটি হামলায় ১৮ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবার এবং আবহা, জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে একবার করে হামলা হয়েছে।
এর আগে রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, কিং খালিদ বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে গেলে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরও ১১ জন আহত হন।
শনিবারের আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। ওই ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত করে। সোমবার স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট কাউকে দায়ী করেনি। তবে ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কয়েকটি হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। হুথি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বুধবারের ঘোষণাটি আগের কোনো হামলার বিষয়ে, নাকি নতুন কোনো অভিযানের ঘোষণা—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচলের স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, ২০১৪ সাল থেকে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।