শনির আখড়ার ‘আলহেরা রেস্টুরেন্টে’ গলাকাটা খাবারের দাম

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়া এলাকায় হাইওয়ের নিচে যাতায়াতের রাস্তার পাশে মন্দিরসংলগ্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ‘আলহেরা রেস্টুরেন্ট ফুডকোর্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’। নতুন এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জননিরাপত্তার বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেস্টুরেন্ট ও ফুডকোর্টে খাবারের মূল্য নিয়েও তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের দাবি, খাবারের দাম নির্ধারণ ও মূল্যতালিকা প্রদর্শনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় থাকা প্রয়োজন। তবে খাবারের মূল্য নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠছে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘিরে। জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় রেস্টুরেন্ট, ফুডকোর্ট ও পার্টি সেন্টারের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ড, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, গ্যাসের ঝুঁকি কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের বের হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রতিষ্ঠানটি চালুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুধু ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই কি যথেষ্ট?

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি রেস্টুরেন্ট বা পার্টি সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধু ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই সব ধরনের আইনগত ও নিরাপত্তাগত দায় শেষ হয় না। প্রতিষ্ঠানের ধরন ও কার্যক্রম অনুযায়ী টিআইএন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন, খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নিবন্ধন এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া রান্নাঘরে গ্যাসের ব্যবহার, বৈদ্যুতিক সংযোগ, বৈদ্যুতিক তারের মান, রান্নার চুলার নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং জরুরি বহির্গমন পথ—সবকিছুই নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় থাকা জরুরি।

বিশেষ করে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটলে গ্রাহক ও কর্মীরা যাতে দ্রুত ও নিরাপদে বের হয়ে যেতে পারেন, সে জন্য কার্যকর জরুরি বহির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ও কার্যকর ফায়ার এক্সটিংগুইশার, অগ্নি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে কর্মীদের প্রস্তুতি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

সরেজমিন পরিদর্শনের দাবি

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘আলহেরা রেস্টুরেন্ট ফুডকোর্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’ চালুর আগে এসব অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে কি না। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর, পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে কি না এবং জরুরি বহির্গমন পথ কতটা নিরাপদ—এসব বিষয় সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হোক। কোনো ধরনের ঘাটতি পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

নথিপত্র যাচাই ছাড়া অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট নয়

তবে স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগ ও প্রশ্নের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন পরিদর্শন জরুরি। প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বিধিসম্মত কি না এবং খাবারের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্যতালিকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারে।

এ বিষয়ে ‘আলহেরা রেস্টুরেন্ট ফুডকোর্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *