সাতকানিয়ায় মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় দোকানদার শাহাদাত নিহত

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার রাস্তামাথা মডেল মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় শাহাদাত নামে এক তরুণ দোকানদারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে তিনটি মোটরসাইকেল ও দুটি সিএনজিযোগে ঘটনাস্থলে আসে। তারা সরাসরি শাহাদাতের পানের দোকানের সামনে গিয়ে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা ছাড়াই অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। বিশেষ করে শাহাদাতের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো হামলাটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও পরিকল্পিত। কেউ এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য “গুলি করা হবে” বলে হুমকি দেয়। এতে সাধারণ মানুষ ভীত হয়ে পড়ে এবং কেউ সাহস করে কাছে যেতে পারেনি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে কেরানীহাট আশ্-শেফা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহত শাহাদাত সাতকানিয়ার ৮নং ঢেমশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মাইজপাড়া এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। তিনি একজন পরিশ্রমী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। তার পরিবারে তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই বলেন, জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস হামলা প্রমাণ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি কিভাবে ওদের দল এসে মুহূর্তের মধ্যে হামলা চালালো। আমরা এগোতে চাইছিলাম, কিন্তু তারা গুলি করার হুমকি দেয়। এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে দেখিনি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে, কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা মনে করেন, দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটতে পারে। অনেকেই এই ঘটনাকে সমাজের জন্য ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—এ ধরনের নৃশংস হামলা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এভাবে প্রাণ না হারায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *