সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের অভিযানে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান ও ৬১৪টি কম্বল উদ্ধার

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান ও প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের ৬১৪টি কম্বল উদ্ধার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম খন্দকারের মালিকানাধীন ঢাকা মেট্রো-গ-১৪-০৮৩১ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যানে গত ৫ জুলাই ২০২৬ ভোরে ফতুল্লা থানার সাদ্দাম মার্কেট থেকে প্রায় ৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা মূল্যের ৬১৪টি কম্বল বোঝাই করে ময়মনসিংহের ফুলপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন চালক মো. মাসুদ মিয়া।

ভোর আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে কাভার্ড ভ্যানটি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৌঁছালে ৮ থেকে ১০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে গাড়িটি থামানোর সংকেত দেয়।

গাড়ি থামানোর পর তিনজন ডাকাত কাভার্ড ভ্যানে উঠে চালক ও মালিককে মারধর করে। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি টেকনো স্মার্টফোন, একটি ভিভো স্মার্টফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাদের দুজনের চোখ ও মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ডাকাতদের সঙ্গে থাকা একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। অপরদিকে ডাকাতরা কম্বলবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে ভুক্তভোগীদের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও বাজারসংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে দুপুরের দিকে মাইক্রোবাস থেকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। মুক্ত হয়ে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।

ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এমদাদুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুম বিল্লাহ এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দল ৭ জুলাই ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একাধিক স্থানে অভিযান চালায়।

অভিযানে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান ও ৬১৪টি কম্বল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আব্দুর রহিম (৪২), মো. ফারুক ওরফে বাবু (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৪০), আব্দুল গাফফার (৩৭) এবং আব্দুর রহমান (৩০)।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তাদের অভিযান চলমান থাকবে। মহাসড়কে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *