সৌদিতে চাকরির প্রলোভনে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

জেলা প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর কালুখালীতে সৌদি আরবে পাঠিয়ে ভালো চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং পরে প্রতারণার মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় মোছা. আমেনা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মোছা. সেলিনা (৩৫) নামে এক গৃহবধূ বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় খান শাহিদুল (৩৫) ও তার স্ত্রী মোছা. আমেনা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি মানবপাচার ও চোরাচালান দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২)/৭ ধারায় করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর স্বামী আরাফাত শিকদার বেকার থাকায় তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন সেলিনা। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, মামলার প্রধান আসামি খান শাহিদুল সৌদি আরবে লোক পাঠান। এরপর স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শাহিদুল সৌদি আরবে ভালো ভিসা ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে গত ১৫ মে বিকেলে শাহিদুলের বসতঘরে বাদী ও আরও দুই ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মোট ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আসামিদের দেওয়া হয়।

এরপর আরাফাত শিকদার, মো. নিশাদ খান (২৭) ও জাবেদ শেখ (২২) নামে তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠানো হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাদের প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানো হয়। পরে আরাফাত শিকদারকে অন্য এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বাদী মোছা. সেলিনা বলেন, আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা নিয়ে তার স্বামীসহ তিনজনকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন। তার দাবি, তাদের মতো আরও প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সৌদি আরবে পাঠানোর পর তাদের দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পেরেছেন।

ভুক্তভোগীদের একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন এবং ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগও করেন সেলিনা। তিনি তার স্বামীসহ সব ভুক্তভোগীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *