মোঃ হাসান আলী:
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন পুনঃপ্রতিষ্ঠা প্রকল্প নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:
-
রোকসানা জাহান, সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা, মধুপুর রেঞ্জ।
-
রাব্বি রায়হান, সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা, জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ।
-
সাইফুল ইসলাম, ডেপুটি রেঞ্জার, চাড়ালজানি বিট।
-
আসাদুজ্জামান টিটু, বিট কর্মকর্তা, মহিষমারা বিট।
-
আউশনারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।
এছাড়াও মধুপুর রেঞ্জের আওতাধীন সর্বস্তরের জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিটের স্টাফরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য:
মতবিনিময় সভায় ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, “হাজার শাল লাগাই, হারানো শালবন ফেরাই।”
তিনি বন ও কৃষির সমন্বয় নিয়ে বলেন, “আমরা যখন আকাশমণি গাছ লাগাই, তার নিচে আদা, হলুদ, পেঁপে, আনারস এবং কলার মতো বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে পারি। তবে আকাশমণি দ্রুত বেড়ে ওঠায় ৩ থেকে ৪ বছরের বেশি এই ফসলগুলো চাষ করা যায় না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শাল গাছ আমাদের শত বছরের ঐতিহ্য। শাল গাছ আকাশমণির মতো দ্রুত বৃদ্ধি পায় না বলে এর ছায়ায় প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত আদা, হলুদ, পেঁপে, কচু এবং আনারস উৎপাদন করা সম্ভব।”
জনস্বাস্থ্যের বিষয়ে সতর্কতা:
আনারস চাষে রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আনারসে হরমোন প্রয়োগ করলে তাতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই আমাদের সবার সতর্ক থাকা জরুরি যেন আমরা আনারসে হরমোন ব্যবহার না করি। আমাদের ভবিষ্যৎ নাগরিক অর্থাৎ আমাদের সন্তানদের সুস্থভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই। অতিরিক্ত মুনাফার আশায় হরমোন ব্যবহার না করা আমাদের এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মঙ্গলজনক।”