হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান হবে কি, যা বলল পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইয়েমেনের হুথিরা গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশটির তেল শোধনাগারগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের এই সংঘাত শুরুর কয়েক দিন আগে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করে সৌদি আরব। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খানকে হুথিদের বিষয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা সামরিক চুক্তির আওতায় হুথিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না—জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।

জবাবে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, ‘সৌদির সঙ্গে থাকা চুক্তিগুলোর নীতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তান এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে অভিযানের সুবিধার্থে তা গোপন রাখা হবে।’

তিনি হুথিদের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর জন্য তাদের প্রতি অনুরোধ করেন।

পাকিস্তানের এই কূটনীতিক জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সব ধরনের সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে রয়েছে ইসলামাবাদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায়। ওই সময় একটি বিমানে ইরান থেকে আসা হুথি নেতাদের একটি দল ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

তারা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের আরোপ করা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হুথিরা অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *