১৮ বছর পর পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রোনালদো, আচরণে প্রকাশ ক্ষোভ

ক্রীড়া ডেস্ক:

ফর্ম যেমনই থাকুক, পর্তুগালের একাদশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জায়গা যেন ছিল অবধারিত। অন্তত ২০০৮ সাল থেকে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায়নি। তবে উয়েফা নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।

দীর্ঘ ১৮ বছর পর কোনো প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে রোনালদোকে। এর আগে পর্তুগালের হয়ে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচে সর্বশেষ ২০০৮ সালের ১৫ জুন এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেবার ইউরো কাপের গ্রুপ পর্বে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে পর্তুগাল ২-০ গোলে হেরেছিল।

১৮ বছর পর নরওয়ের বিপক্ষেও মাঠে নামা হয়নি রোনালদোর। ম্যাচের শেষ দিকে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করতেও দেখা যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোচ হোর্হে জেসুস তাঁকে মাঠে নামাননি।

ম্যাচ শেষে রোনালদোর আচরণেও বিরক্তি ও ক্ষোভের প্রকাশ দেখা যায়। পর্তুগিজ গণমাধ্যম ও জোগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সতীর্থরা যখন গ্যালারিতে থাকা প্রায় ৫০০ পর্তুগিজ সমর্থকের সামনে গিয়ে হাততালি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন, তখন রোনালদো তাদের সঙ্গে না গিয়ে সরাসরি টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন কোচ হোর্হে জেসুস। রোনালদো কেন সমর্থকদের এড়িয়ে চলে গেলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেসুস বলেন, বিষয়টি নিয়ে রোনালদোর সঙ্গেই কথা বলা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘এটি কেবলমাত্র তিনিই এর উত্তর দিতে পারেন।’

তবে রোনালদোকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রাখার ট্যাকটিক্যাল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পর্তুগিজ কোচ। জেসুস জানান, তাঁর পরিকল্পনা ছিল ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় রোনালদোকে মাঠে নামানো। কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত সেই প্রয়োজন তৈরি করেনি।

রোনালদোকে মাঠে না নামানোর ক্ষেত্রে বদলি হিসেবে নামা ফরোয়ার্ড গনসালো রামোসের পারফরম্যান্সও ভূমিকা রেখেছে বলে জানান জেসুস। নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নয়ল্যান্ডের ভুলের সুযোগ নিয়ে রামোস একটি গোল করেন। পরে আরও একবার বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

জেসুস বলেন, গনসালো ভালো খেলছিল। সে একটি গোল করেছে এবং আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে। তাই ওই সময়ে তাকে তুলে নেওয়াটা তাঁর কাছে সঠিক মনে হয়নি।

রোনালদোকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো ফিটনেস সমস্যা বা শারীরিক ক্লান্তির সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করেন জেসুস। তিনি জানান, রোনালদো পুরো ম্যাচ খেলার মতোই ফিট ছিলেন এবং কোচ যতক্ষণ চাইতেন, ততক্ষণ তাঁকে খেলাতে পারতেন।

এদিকে আগামী ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচ রয়েছে। ওই ম্যাচে রোনালদোকে আবারও শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ জেসুস।

নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও দলের কৌশলগত কিছু জায়গায় এখনও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *