৩৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় পনির খন্দকার

খসরু মৃধা:

দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন মোঃ পনির খন্দকার। ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোঃ পনির খন্দকার রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পনির খন্দকার কালীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কালীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে সাংবাদিকতা করছেন পনির খন্দকার। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক ভোরের আকাশ পত্রিকা ও রাজধানী টেলিভিশনে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে পূবাইল থানা প্রেসক্লাবের কার্যকরী সদস্য হিসেবে আছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণার জন্য জাসাসের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

পনির খন্দকারের ভাষ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কাছে আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি জানান, গাজীপুর-৫ আসনে আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খাইরুল হাসান পান ৭৬ হাজার ৭৬১ ভোট। প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৫৬ হাজার ১৩০।

নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের বিষয়ে পনির খন্দকার বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন আমার রাজনৈতিক অভিভাবক। আমি বিএনপিকে মনেপ্রাণে ভালোবাসি। আমি বিএনপি তথা এ কে এম ফজলুল হক মিলনের একজন কর্মী।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রতিকূল সময়ের কথা তুলে ধরে পনির খন্দকার দাবি করেন, ১/১১-এর পর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর তাঁকে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নয়বার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড ও রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।

রাজনীতি ও পেশাগত জীবনের সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে পনির খন্দকার বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজস্ব পেশা থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, পেশাগত পরিচয় ও উপার্জনের স্বচ্ছ ভিত্তি না থাকলে রাজনীতিতে অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে রাজনীতি জনকল্যাণের পরিবর্তে অর্থকেন্দ্রিক হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে রাজনীতিকে কলুষিত করা হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তিনি প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানান। পনির খন্দকারের মতে, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনসেবাকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্য দিয়েই রাজনীতির প্রকৃত লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *