আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যাজনিত বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বন্যায় গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৬৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে প্রকাশিত এক বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে আসাম রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ)।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বর্তমানে আসামের ৩৫ জেলার মধ্যে ১৬টি জেলার ৮৭২টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ জনে।
এর আগে সোমবার প্রকাশিত বুলেটিনে ৭৯৪টি গ্রামে প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বন্যাকবলিত গ্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগড়, চারাইদেও ও জোরহাট জেলা। শিবসাগড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ জন, চারাইদেওতে ১ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ জন এবং জোরহাটে ৫০ হাজার ৯৮৭ জন বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
এছাড়া গোলাঘাট, কামরূপ, হোজাই, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, তিনসুকিয়া, কারবি আংলং, লখিমপুরসহ আরও কয়েকটি জেলায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে।
উপদ্রুত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও দমকল বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান চলছে।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে বুধবার তিনি চারাইদেও, নাজিরা, শিবসাগড়, সোনারি, জোরহাট ও তিওক সফর করবেন।
এএসডিএমএ জানায়, আপার আসামের বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। বন্যায় অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল তলিয়ে গেছে এবং বহু সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগড় জেলার সিমালুগুড়ি এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেংহাট রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং ও ধানসিঁড়িসহ আসামের অধিকাংশ নদীর পানি বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত ১০১টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৯ হাজার ৬০৬ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
সূত্র: এনডিটিভি