আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে টানা পঞ্চম দিনের মতো নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। বুধবার গভীর রাতে পরিচালিত এ হামলায় রাজধানী তেহরান, বন্দর আব্বাস, তুনব দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ভোররাতের দিকে প্রায় ৯০ মিনিটব্যাপী অভিযানে বন্দর আব্বাস, তুনব দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরানের কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন-সম্পর্কিত স্থাপনা এবং উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থায় হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমিয়ে আনতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে বন্দর আব্বাস ও তুনব দ্বীপ ছাড়া অন্য কোনো স্থানের নাম উল্লেখ করেনি। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সর্বশেষ হামলায় পূর্ব তেহরানের সেনমান বিমানবন্দর, খোন্দাব, কেশম দ্বীপ এবং হরমুজগান প্রদেশের সিরিক এলাকার সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কিছু সময়ের মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটি জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন আল আজরাক বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে বিমান অভিযান শুরু করলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়। প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ।
১৪ দফার ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ও তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। এর জবাবে ৭ জুলাই পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে ১১ জুলাই থেকে উভয় দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট