আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুটি আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটকে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তের পর দেশটিকে আর কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স ইসরায়েলের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থি মিত্ররা এমন একটি ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিকভাবে কথা বলার সুযোগ থাকবে না।
স্যান্ডার্স তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘যদি বিষয়টি ইতোমধ্যেই পরিষ্কার না হয়ে থাকে, তাহলে জেনে রাখুন—নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থি মিত্ররা এমন এক ইসরায়েল চান, যেখানে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের, যারা দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ, কোনো কথা বলার সুযোগ থাকবে না।’
এরপরই তিনি সরাসরি আহ্বান জানান, ‘ইসরায়েলকে আর কোনো মার্কিন সামরিক সহায়তা নয়।’
আরব দলগুলোর অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা
ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেশটির আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুটি আরব-অধ্যুষিত রাজনৈতিক তালিকা—রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট—অযোগ্য ঘোষণা করে। একই প্রক্রিয়ায় জয়েন্ট লিস্টের দুই প্রার্থী ওফের ক্যাসিফ ও সামি আবু শেহাদেহকেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রা’আম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আইনে নির্ধারিত কয়েকটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে অস্বীকার করা, বর্ণবাদে উসকানি এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থনের মতো অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো এসব অভিযোগের বিরোধিতা করেছে এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির এই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। বিষয়টি ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে এবং দলগুলোর পক্ষ থেকেও আপিলের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক
আরব দলগুলোর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি-আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দুই প্রধান আরব রাজনৈতিক তালিকা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে নেসেটে তাদের প্রচলিত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বড় ধরনের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার পক্ষে থাকা পক্ষগুলো ইসরায়েলি আইনে নির্ধারিত সাংবিধানিক বিধানের কথা উল্লেখ করেছে। ওই বিধানের আওতায় রাষ্ট্রের চরিত্র অস্বীকার, বর্ণবাদে উসকানি কিংবা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম সমর্থনের মতো কারণে কোনো দল বা প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রয়েছে।
স্যান্ডার্সের অবস্থান
বার্নি স্যান্ডার্স দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মার্কিন সামরিক সহায়তা ও পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে আসছেন। এবার ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানালেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের সিনিয়র সিনেটর স্যান্ডার্স মার্কিন কংগ্রেসের একজন স্বতন্ত্র সদস্য। তিনি নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং মার্কিন কংগ্রেসের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে পরিচিত।
ইসরায়েলের আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচন ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির সিদ্ধান্ত এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।