মনজুর আলম:
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে র্যাব-১৫-এর অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একাধিক থানায় মাদক ও অন্যান্য আইনে দায়ের হওয়া ৬টি মামলার আসামিসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোবাইল ফোন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও উপজেলার মেহেরঘোনা এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট) বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৫।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নজির আহাম্মেদ (৪৪), পিতা: মৃত ফয়েজ আহাম্মেদ, গ্রাম: শীলবনিয়া পাড়া (৭ নম্বর ওয়ার্ড), টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, থানা: টেকনাফ, জেলা: কক্সবাজার এবং মো. রিয়াজুল বখতিয়ার (৪৮), পিতা: মৃত কিতাব আলী বখতিয়ার, গ্রাম: পয়সা, থানা: আগৈলঝাড়া, জেলা: বরিশাল। বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলক্ষেত উত্তরপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
র্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, চট্টগ্রাম থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ মাদক কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মেহেরঘোনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। পরে সন্দেহভাজন একটি সাদা সেডান কার থামিয়ে চালক ও যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন। এতে সন্দেহ হলে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৭৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া নজির আহাম্মেদ একজন চিহ্নিত ও অভ্যাসগত মাদক কারবারি। তার অপরাধের খতিয়ান (PCPR) পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজধানীর বংশাল, চট্টগ্রামের কোতোয়ালী ও বায়েজিদ বোস্তামী, ফেনী সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিদেশি নাগরিক আইন (Foreigners Act)-সহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে ট্রলি ব্যাগের মধ্যে গাঁজার চালানটি বহন করা হচ্ছিল।
উদ্ধার হওয়া গাঁজা, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, দুটি মোবাইল ফোন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঈদগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।