পূর্বধলায় পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার পরও নতুন করে উত্তেজনা, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা ইউনিয়নের কালিহর মাইজপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মীমাংসার পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ এবং পুনরায় মামলা করার হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নিজেদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিহর মাইজপাড়া গ্রামের মৃত মুগবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল বাশার, তার স্ত্রী মোছা. ইয়াছমিন আক্তার এবং আবুল বাশারের মা মোছা. ফিরোজা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের হয়। এছাড়া ফিরোজা বেগমকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।

পরিস্থিতির অবনতি হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রামে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিরোজা বেগম তার ছেলে মো. আবুল বাশারকে ৪ লাখ টাকা প্রদান করবেন। পরে উভয় পক্ষ আদালতে গিয়ে এফিডেভিট সম্পন্ন করেন এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে টাকার লেনদেনও সম্পন্ন হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মীমাংসা ও এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পরও ইয়াছমিন আক্তার পুনরায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ইয়াছমিন আক্তার প্রকাশ্যে গ্রামবাসীর সামনে পুনরায় মামলা করার এবং এমন মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে মো. আব্দুর রহমান, মো. সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, সুরুজ মিয়া, মো. মাতাব উদ্দিন, আজিদ মিয়া, শাহিন মিয়া, সাইদুল মণ্ডল, মো. এরশাদ মিয়া, মো. ইসলাম মিয়া, মো. ছরাপ মিয়া, নজরুল ইসলাম, তোহুরা আক্তার, রাহেলা খাতুন, ফরিদা আখতার, খালেদা খাতুন, রেখা আক্তার, মোছা. মঞ্জুরা খাতুন, রাশিদা বেগম, তাসলিমা আক্তার, আছিয়া আক্তারসহ আরও অনেকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *