উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নীরবতায় হোটেল-মোটেল জোনে অবৈধ ভবনের ছড়াছড়ি

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

পর্যটন এলাকার নির্ধারিত হোটেল-মোটেল জোনে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ভবন নির্মাণের প্রবণতা। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও পদক্ষেপের অভাবে জোনের পরিকল্পিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে একের পর এক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হোটেল-মোটেল জোনে শুধুমাত্র পর্যটন ও আবাসন-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মাণের বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদনহীনভাবে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন গড়ে উঠছে। এসব ভবনের অনেকগুলোর নকশা অনুমোদন, উচ্চতা-সীমা এবং ভূমি ব্যবহারের শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকার পরিবেশ, সৌন্দর্য এবং অবকাঠামোগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত এসব স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। এতে পরিকল্পিত নগরায়ণ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জননিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা বলেন, হোটেল-মোটেল জোনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধ স্থাপনার কারণে এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যটকদের কাছে এলাকার আকর্ষণও কমে যেতে পারে।

এ বিষয়ে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অবৈধ স্থাপনার বিষয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। দ্রুত অবৈধ ভবন চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্মাণকাজে কঠোর নজরদারি এবং হোটেল-মোটেল জোনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *