রাউজানে ধানক্ষেত থেকে নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর স্বপন বড়ুয়া (৫২) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বড়ুয়াপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত স্বপন বড়ুয়া কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। যে স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি তার বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্বপন বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। এরপর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, বাড়ির পাশের একটি দোকানে একজন তাকে ডাকছেন। এ কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর রাতে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। বুধবার সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, স্বপন বড়ুয়ার কপাল, নাক, হাত ও পিঠে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন রয়েছে।

গৌরচন্দ্র যতীন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাসন রক্ষিত বলেন, “স্বপন বড়ুয়া আমাদের বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ছিলেন। তাকে সন্ধ্যায় ঘর থেকে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তার লাশ পাওয়া গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানাই।”

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরের রক্তাক্ত জখম অন্য কারও আঘাতে হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বিষের বোতল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ধানক্ষেতে ছটফট করতে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত হতে পারেন। এছাড়া ঘটনাস্থলে থাকা একটি টিউবওয়েলের সঙ্গে আঘাত লেগেও জখম হয়ে থাকতে পারেন।

লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী রাউজান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ খোরশেদ বলেন, “শরীরে জখমের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি সত্য। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষপানের পর ছটফট করতে গিয়ে এসব জখম হয়েছে। ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।”

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *