উরুগুয়ের কিংবদন্তি তাবারেজকে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস

স্পোর্টস ডেস্ক  :

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলে নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে। দলটির বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উত্তরণের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন প্রধান কোচ হুগো ব্রুস। ৭৪ বছর বয়সে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলে তিনি ভেঙে দিয়েছেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ অস্কার তাবারেজের দীর্ঘদিনের রেকর্ড।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘বাফানা বাফানা’ খ্যাত দলটির জন্য এটি একটি স্মরণীয় অর্জন, কারণ তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্যায়ে জায়গা করে নিয়েছে।

এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়িত্বে থাকা বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রুসও নিজের নাম লিখিয়েছেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে। ৭৪ বছর ৭৫ দিন বয়সে তিনি জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের নকআউটে তোলা সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন উরুগুয়ের কিংবদন্তি কোচ Óscar Tabárez। ‘এল মায়েস্ত্রো’ নামে পরিচিত তাবারেজ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৭১ বছর ১২৫ দিন বয়সে উরুগুয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনি তৎকালীন সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দল পরিচালনার রেকর্ড গড়েছিলেন।

তবে কয়েক বছর পর সেই কীর্তিকে পেছনে ফেললেন ব্রুস। দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে আফ্রিকান ফুটবলে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়া এই বেলজিয়ান কোচ এবার বিশ্বকাপের মঞ্চেও নিজের নাম উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরলেন।

১৯৫২ সালের ১০ এপ্রিল জন্ম নেওয়া হুগো ব্রুসের বয়স কানাডার বিপক্ষে রোববারের নকআউট ম্যাচের দিন হবে ৭৪ বছর ৭৯ দিন। আনুষ্ঠানিকভাবে সেদিনই তিনি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দল পরিচালনা করা সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

তবে এই রেকর্ড খুব বেশি দিন অক্ষত থাকবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। কারণ বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে সবচেয়ে বয়স্ক কোচের মর্যাদা পাওয়া ডাচ কোচ Dick Advocaat এখনও প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। কুরাসাওয়ের দায়িত্বে থাকা ৭০–এর শেষ প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া এই অভিজ্ঞ কোচ যদি তার দলকে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে তুলতে পারেন, তাহলে সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন করে ইতিহাস গড়তে পারেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রুসের রেকর্ড যেমন বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি বয়স যে সফলতার পথে কোনো বাধা নয়—সেটিও আবারও প্রমাণ করেছে। অভিজ্ঞতা, কৌশল এবং নেতৃত্বের সমন্বয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এখন দেখার বিষয়, কানাডার বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে ব্রুসের শিষ্যরা আরও এক ধাপ এগিয়ে নতুন কোনো রূপকথার জন্ম দিতে পারেন কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *