স্টাফ রিপোর্টার:
সাভারের সাদাপুর এলাকায় এলপিজি গ্যাসের ডিলারশিপ ব্যবসার আড়ালে ডাকাতি হওয়া মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে রাফাত নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, বৈধভাবে মালামাল কেনার চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ঘটনায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ২০২৬ মুন্সিগঞ্জের জাহিদুল ট্রেডার্সের ৫৫০টি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী একটি চালান ডাকাতির কবলে পড়ে। পরে ডাকাত দলের সদস্যদের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ডাকাতি হওয়া ৫৫০টি সিলিন্ডার সাভারের সাদাপুর এলাকার রাফা ইন্টারপ্রাইজের মালিক রাফাতের কাছে বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর প্রকৃত মালিক নিজেই অনুসন্ধান করেন এবং গাড়ির চালককে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন যে সিলিন্ডারগুলো রাফাতের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে ৩৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিলিন্ডার উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাফা ইন্টারপ্রাইজে প্রায়ই গভীর রাতে ট্রাকযোগে বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়া হতে দেখা যায়। এসব কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাফাত বলেন, “একজন ড্রাইভার আমার কাছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে আসে। আমি চালানপত্র চাইলে সে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এরপরও তিন লাখ টাকা নগদ এবং পাঁচ লাখ টাকার ব্যাংক চেকের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে আমি জানতে পারি, মালামাল নিয়ে সমস্যা রয়েছে।”
এদিকে জাহিদুল ট্রেডার্সের মালিক হিমেল জানান, “৫৫০টি সিলিন্ডারের মধ্যে ৩৪০টি উদ্ধার হয়েছে। বাকি সিলিন্ডারগুলো এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।”
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং বাকি সিলিন্ডার উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।