কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দারোগা আলী হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ—তদন্তের দাবি উঠেছে

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা:

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীপথে কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর আলী হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নৌ-যান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বের আড়ালে নদীপথে চলাচলকারী বাল্কহেড, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন একাধিক শ্রমিক ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নৌ-যান শ্রমিক জানান, প্রতিদিন নদীতে চলাচলকারী প্রতিটি বাল্কহেড ও ছোট ট্রলার থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা (প্রায় ২০০ টাকা করে) আদায় করা হয়। এসব অর্থ না দিলে নানাভাবে হয়রানি, বাধা প্রদান এবং কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

আরেকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বৈধভাবে নৌযান চালাই, কিন্তু নদীতে উঠলেই টাকা দিতে হয়। না দিলে কাজ করতে দেওয়া হয় না। পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র পুরো নদীপথ নিয়ন্ত্রণ করছে।”

স্থানীয়দের দাবি, এই চাঁদাবাজির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত, যারা নৌ পুলিশের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে প্রভাব বিস্তার করছে। এতে সাধারণ শ্রমিক ও ছোট ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর আলী হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। আমি নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের দায়িত্ব পালন করি। কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে আমি জড়িত নই।”

তিনি আরও দাবি করেন, কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও নৌ-যান শ্রমিকরা নদীপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *