কামরাঙ্গীরচরকে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় শহিদুল হকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজনীতি কেবল ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবির হিসাব নয়; মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এমন প্রত্যয়ের কথাই উঠে এসেছে কামরাঙ্গীরচর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. শহিদুল হকের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভাবনায়।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় শহিদুল হককে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে ইতিবাচক প্রত্যাশা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং অসহায় মানুষের প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ
সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অপরাধ, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে। কামরাঙ্গীরচর থানার ওপেন হাউস ডে’র এক অনুষ্ঠানে শহিদুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মাদক, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধ নির্মূলে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
স্থানীয় বিএনপি কর্মী এনামুল হক রিপন বলেন, শহিদুল হক একজন কর্মীবান্ধব নেতা। কোনো কর্মী কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষ সহযোগিতার জন্য তাঁর কাছে গেলে তিনি সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য হলে সেই রাজনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা মাদকের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডকে এমন একটি এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন এবং তরুণ প্রজন্ম মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।

জনসেবা ও জবাবদিহি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত:
স্থানীয়দের একাংশের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ওয়ার্ডের নেতৃত্বে যাঁরা আসবেন, তাঁদের কাছে জনসেবা, জবাবদিহি ও অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে শহিদুল হকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সঙ্গে শহিদুল হকের নেতৃত্বের সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির খবরেও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম প্রকাশিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ওপেন হাউস ডে’র প্রতিবেদনেও তাঁকে ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহিদুল হকের অনুসারীদের প্রত্যাশা, রাজনীতির মূল শক্তি হবে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা। পদ-পদবির চেয়ে মানুষের পাশে থাকা, কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং এলাকার সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখাই হবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার প্রধান লক্ষ্য।

পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা:
স্থানীয়দের ভাষায়, মানুষের কল্যাণকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে এগিয়ে যেতে পারলে কামরাঙ্গীরচরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব। সেই প্রত্যাশা নিয়েই শহিদুল হকের নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের একটি অংশ।
উল্লেখ্য, কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো সমস্যা বিদ্যমান। সম্প্রতি ডিএসসিসি প্রশাসক এ এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, ড্রেন ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা ও জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতা থাকলে কামরাঙ্গীরচরকে মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *