আবু ইউছুফ রাবেত:
কুমিল্লায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করা মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করালগ্রাস থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুশীল সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে শহীদ আরআই এ.বি.এম. আবদুল হালিম মিলনায়তনে আয়োজিত মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং একটি সমাজকে ধ্বংস করার ভয়ংকর ব্যাধি। মাদকের বিস্তার রোধে শুধু খুচরা বিক্রেতা কিংবা বাহকদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না—এর নেপথ্যে থাকা ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহপথ ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, তরুণদের একটি অংশ মাদকের ভয়াল ছোবলে আক্রান্ত হলে এর দায় শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পরিবার ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুত্বের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সভায় কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সামাজিকভাবে মাদককে প্রতিহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানই হতে পারে আগামী প্রজন্মকে রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ।