স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্টার কার্তিক জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবা বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সেবাগ্রহীতা, দলিল লেখক এবং সচেতন মহলের একাধিক সূত্রে জানা যায়, দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালাল চক্রের সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জমি রেজিস্ট্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে শুরুতেই একটি অনানুষ্ঠানিক “অতিরিক্ত খরচের চাপ” মোকাবিলা করতে হয়। সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা না দিলে দলিল নিবন্ধনের কাজ বিলম্বিত করা হয়। কখনো ফাইল অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা হয়, আবার কখনো নানা অজুহাতে একাধিকবার অফিসে ঘুরতে বাধ্য করা হয়।
স্থানীয় একাধিক সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কার্যত একটি দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা অফিসের ভেতরের কিছু অসাধু ব্যক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেয়।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা সরাসরি অফিসে গেলে কাজ হয় না। দালাল ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না। টাকা দিলে কাজ দ্রুত হয়, না দিলে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।” আরেকজন অভিযোগ করেন, জরুরি কাজের ক্ষেত্রে ‘স্পিড মানি’ নামে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়, যা সম্পূর্ণ অপ্রাতিষ্ঠানিক ও অনৈতিক।
স্থানীয় দলিল লেখকদের একাংশও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, অফিসে একটি প্রভাবশালী চক্র তৈরি হয়েছে, যারা পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
অফিসের সার্বিক সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক সেবাগ্রহীতা। তাদের মতে, যথাযথ তথ্য না পাওয়া, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বারবার হয়রানির কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত সাবরেজিস্টার কার্তিক জোয়ার্দারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের মতে, যদি এসব অভিযোগ সত্যি হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করার পাশাপাশি সরকারি সেবার মানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
তারা আরও বলেন, দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি দালাল চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করে অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে স্বাভাবিক সেবা পরিবেশ ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে।