নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে একটি লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা মৃত মিয়াফর আলীর ছেলে মো. মাসুদ করিম কর্তৃক কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর দায়ের করা একটি অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম ওরফে রুমালীর ছেলে মো. খোকন মিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এবং এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত তারিখে এমন কোনো ঝগড়া, মারামারি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে পুরো নগুয়া গ্রামে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মীরা এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গ্রামের অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ঘটনাটি বাস্তবে ঘটেনি এবং অভিযোগের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্রামবাসীর দাবি, অভিযোগে যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কয়েকজন ঘটনার সময় এলাকায়ই ছিলেন না; কেউ কেউ কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত খোকন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, মিথ্যা অভিযোগের কারণে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবি, একটি ভিত্তিহীন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়েরও চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এ ঘটনায় গ্রামবাসীর অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা না হলে ভবিষ্যতে এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তারা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়ভাবে যারা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন রহিম উদ্দিন, সঞ্জু মিয়া, সাগর মিয়া, রুকন মিয়া, মানিক মিয়া, ইমরান, রাসেল মিয়া, এনামুল মিয়া, ফিরুজ মিয়া, দুলেনা আক্তার, কমলা আক্তার, খুদবানু, আগুরা আক্তার, নাছিমা বেগম, চম্পা খাতুন, নাবিলা আক্তারসহ আরও অনেক গ্রামবাসী। তাদের সবারই দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগটি সত্য নাকি মিথ্যা—তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই কোনো পক্ষকে অযথা হয়রানি না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনই এখন সময়ের দাবি।