কেরানীহাটে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই, হকারদের পুনর্বাসন করা হবে: এমপি জসিম উদ্দিন

আব্দুল আজিজ আল মাক্কী:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র কেরানীহাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কেরানীহাট অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম অবলম্বন। এখানকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, হকার ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের কাছ থেকে কোনোভাবেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না। কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কেরানীহাটের সী ওয়ার্ল্ড হলরুমে কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্ছেদ অভিযান-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার করেন। তবে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কেরানীহাট ও বান্দরবান জেলা সড়কে কোনোভাবেই যানজট সৃষ্টি করা যাবে না। ব্যবসায়ী, হকার, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত সহযোগিতায় সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, কেরানীহাট চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও বান্দরবান মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এর আশপাশে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই তিন জেলার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কেরানীহাটের মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং যানজট নিরসনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কেরানীহাটে টিউবওয়েল, যাত্রীছাউনি ও পার্কিংয়ের উদ্যোগ

কেরানীহাটের ব্যবসায়ী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও জানান সংসদ সদস্য। তিনি কেরানীহাটে চারটি টিউবওয়েল ও তিনটি যাত্রীছাউনি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেলী নৌশিণ প্রত্যাশাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কেরানীহাটের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উচ্ছেদ অভিযান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী ও হকারদের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পাশাপাশি যানজটমুক্ত কেরানীহাট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল আলম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেলী নৌশিণ প্রত্যাশা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য কামরুল হাসান তালুকদার, কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন, গিয়াস উদ্দিন হিরু, ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম এবং ব্যবসায়ী নেতা সোলেমান বাবুল।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন মহিউদ্দিন, মোরশেদুল আলম, আমানত উল্লাহ, শহিদুল ইসলাম, রুবেল, সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবর, সাংবাদিক মোরশেদুল আলম চৌধুরী, সাতকানিয়া উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহসাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ, নজরুল ইসলাম, ফরিদুল আলম, দেলোয়ার হোসেন, জিয়াবুল রানা, মিনহাজ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ও রমজান আলী।

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফৌজুল কবির রুবেল, বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল রিয়াদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, পরিবহন সমিতির প্রতিনিধি এবং হকারদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় কেরানীহাটের ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা, হকারদের পুনর্বাসন, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *