স্টাফ রিপোর্টার :
খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে লাইসেন্সবিহীন পরিচালনা, দালালচক্রের মাধ্যমে রোগী প্রলোভন, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং চিকিৎসায় গাফিলতির মতো ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সরকারি নিয়ম-কানুন না মেনে চলছে, যা রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরীতে অনিবন্ধিত অন্তত ৩৯টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রয়েছে। এছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স থাকলেও পরিচ্ছন্নতা, যোগ্য চিকিৎসক-নার্সের অভাব এবং অতিরিক্ত শয্যা ব্যবহারের মতো অনিয়ম করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে র্যাব ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে এসব অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
২০২৩ সালে র্যাবের অভিযানে অনুমোদনবিহীন সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে মালিককে জরিমানা করা হয়। একইভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় (খুলনা বিভাগের অধীনে) সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগে দুদকের অভিযানে লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান ও দালালচক্রের সন্ধান মেলে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা কমিশনের বিনিময়ে রোগী পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব অনিয়মের কারণে অসহায় রোগীরা অতিরিক্ত খরচের শিকার হচ্ছেন এবং অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানেও দালালচক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “লাইসেন্স ছাড়া চলা ক্লিনিকগুলোতে যোগ্য ডাক্তার নেই, পরিবেশ নোংরা। তবু দালালরা রোগী ধরে নিয়ে যায়। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান দরকার।”
দুদক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রভাবশালী মালিকদের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বারবার খুলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কঠোর মনিটরিং ও শাস্তির মাধ্যমে এই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এ ব্যাপারে খুলনা সিভিল সার্জনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।