গণপূর্তের লটারিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান: ১২০ কোটি টাকার দাবি কাল্পনিক, প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত :মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নের লটারিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করে বুধবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রেস রিলিজে বলা হয়, ওই প্রতিবেদনগুলোতে লটারি পদ্ধতিতে অনিয়ম, গ্রেডিং শিট পরিবর্তন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অনুমাননির্ভর এসব অভিযোগের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। তদবির ও অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, লটারি কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে উন্মুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো পুরো কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে। ফলে প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত ছিল বলে দাবি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, এমন একটি প্রকাশ্য কার্যক্রম নিয়ে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ তোলা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, লটারির মাধ্যমে পদায়নের পর কোনো কর্মকর্তা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে মানবিকভাবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে। বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের উদ্যোগ হিসেবে এ লটারি পদ্ধতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও অনুসরণ করা হচ্ছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।
১২০ কোটি টাকার অভিযোগ ও সাংবাদিকের নাম ব্যবহার
প্রেস রিলিজে বলা হয়, এ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অথচ এই বিপুল অঙ্কের অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী হিসেবে সিনিয়র সাংবাদিক রুস্তম মল্লিকের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কে বা কারা তাঁর নাম ও নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ দায়ের করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ওই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রণালয় মনে করে, কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উত্থাপন করা প্রয়োজন। গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রেও অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। অনুমাননির্ভর ও প্রমাণহীন অভিযোগ প্রকাশের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছ কার্যক্রম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনাকাঙ্ক্ষিত।
এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তথ্য-প্রমাণ যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *