খসরু মৃধা:
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার ভোরে দত্তপাড়া বনমালা এলাকায় নিজ ঘর থেকে হাত-পায়ের রগ কাটা অবস্থায় সাকিব হোসেন নামে এক তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, বাড়ির পাশে রেললাইন থেকে তার বাবার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— মো. সোহেল রানা (৫১) ও তার ছেলে সাকিব হোসেন (১৭)।
এ ঘটনায় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সাইবুর রহমান সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল হোসেন একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। বছরখানেক আগে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর থেকে বাড়িতে দুই ছেলেকে নিয়েই তিনি বসবাস করতেন।
ছোট ছেলে সাকিব রাজধানী উত্তরায় একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি চাকরিও করতেন। বড় ছেলে সাইবুর রহমান সোহান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
পুলিশের ভাষ্য, গতকাল শনিবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সাকিব হোসেনের মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল, যাতে তিনি চিৎকার করতে না পারেন। এরপর তার দুই হাতের রগ কেটে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এছাড়া তার বাবা সোহেল হোসেনের লাশ পাশের বনমালা রেললাইনে পড়ে ছিল। তার শরীরে রেলের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানার পুলিশ বাবা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহান পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কর্মস্থলে রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন (নাইট ডিউটি) শেষে ফিরেই ঘুমিয়ে পড়ায় তিনি কিছুই বুঝতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া সোহেল হোসেনের বড় ছেলে সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।