স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কাশিমপুরে দলবদল করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এক যুবকের পৈতৃক বাড়িঘর জোরপূর্বক দখল, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ সোরাব হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত সোরাব হোসেন দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর সিটির ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। ভুক্তভোগী শাহিনুর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ও তাঁর পরিবার গ্রামের নিজ বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের সাবেক সক্রিয় কর্মী এবং বর্তমানে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মোঃ সোরাব হোসেন একদল লোক নিয়ে শাহিনুরের বাড়িঘর জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাহিনুরের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ সময় শাহিনুর, তাঁর ভাই ও আত্মীয়স্বজন বাধা দিলে সোরাব হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় এক কর্মী বা স্বজন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শাহিনুর জানান, বাড়িঘর দখল ও ভাঙচুরের প্রতিবাদ করায় সোরাব হোসেন প্রকাশ্যে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। শাহিনুর আরও অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে বাড়িঘর দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে সোরাব হোসেন দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘এখন আমি বিএনপি করি, আগে আওয়ামী লীগ করেছি, তাতে কী হয়েছে!’ এ ধরনের হুমকি দিয়ে তিনি তাঁদের এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন শাহিনুর।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও তাঁদের সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
ভুক্তভোগী শাহিনুরের পরিবার এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।