ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মোঃ মশিউর রহমান:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের ডিম উৎপাদন বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এ জন্য উন্নত মানের ডিম উৎপাদন, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পোলট্রি খাতের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের তুলা ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি ও বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল যৌথভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ বছর আমরা প্রথমবারের মতো নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করেছি। এটি আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি বিষয়। আমরা যদি ভালো মানের পণ্য উৎপাদন করতে পারি, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানি করতেও সক্ষম হব। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পোলট্রি খাতের উৎপাদন খরচ কমাতে ফিডের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা রয়েছে। ফিডে কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কম খরচে ডিম থেকে আমরা প্রোটিন পেতে পারি। ডিম একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। কাজেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি করে ডিম রাখা হলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।”

পোলট্রি খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ খাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ শিল্পকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন জায়গায় হাঁস-মুরগি বিতরণ করেছিলেন। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০১ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা যদি নারীদের হাঁস-মুরগি পালনে উৎসাহিত করতে পারি এবং বাড়ির আঙিনায় সেগুলো লালন-পালনের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারি, তাহলে তাঁরা ডিমও পাবেন এবং অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এর মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে নারীদের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে প্রান্তিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করবে।

পোলট্রি খামারে বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পোলট্রি খামারগুলোকে কীভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহ্বায়ক মসিউর রহমান এবং ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক কৃষিবিদ মোহাঃ রেজাউল আমিন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমানসহ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. বাপন দে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *