কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ একাধিক মামলার আসামি ওসমান গনি ওরফে মনা (৩৫) গ্রেফতার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, তিনি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে আনুমানিক দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে হাটহাজারী থানাধীন চিকনদন্ডী ইউনিয়নের একটি পাঁচতলা ভবনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে ওসমান গনিকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তার দখল ও হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধারকৃত আলামত
অভিযানে একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), তিনটি একনলা শর্টগান, ১১ রাউন্ড ৭.৬৫ পিস্তলের তাজা গুলি, রাইফেলের গুলি, ১৭ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র (চাপাতি ও সুইচ গিয়ার চাকু), নগদ ৫১ হাজার টাকা, বিভিন্ন মডেলের একাধিক মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওসমান গনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতেন এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তথ্য দিয়েছেন।
এছাড়া তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক আরও দুই আসামি—হৃদয় (৩০) ও রাজু (৩২)-এর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত ওসমান গনির বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিডিএমএস (CDMS) পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্রসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।