চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম নগরে সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ হৃদয় (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা। পুলিশ বলছে, হত্যার আগে হৃদয়কে ওয়াকিল হোসেন বগার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখান থেকে বের হওয়ার পরই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির চার নম্বর গলিতে বগার বাসায় হৃদয়কে ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তালতলা এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সড়কের পাশে অবৈধভাবে বসানো শাকসবজির দোকান থেকে চাঁদাবাজি এবং সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, নিহত হৃদয়ের বাড়ি ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায়। তার বাবা অন্ধ হওয়ায় বাবার দোকানে বসে সবজি বিক্রি করতেন তিনি।
ওসি বলেন, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে হৃদয় বাসায় ফিরে ভাত খেতে বসেছিলেন। এ সময় কামরুল নামে এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যান। প্রায় আধাঘণ্টা পর হৃদয়ের বাবা দোকানে বসে জানতে পারেন, তালতলা এলাকায় তার ছেলেকে কে বা কারা ছুরি মেরেছে।
ওসি আবদুর রহিম আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন, হৃদয়কে বাসা থেকে ডেকে ওয়াকিল হোসেন বগার অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বের হওয়ার পরপরই তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, হৃদয় কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশও জানিয়েছে, হৃদয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য তারা পায়নি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ওয়্যারলেস কলোনি ও আশপাশের এলাকায় ওয়াকিল হোসেন বগার লোকজন সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসিয়ে ভাড়ার নামে চাঁদা আদায় করতেন। হৃদয়ও এমন একটি দোকানে সবজি বিক্রি করতেন বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তার ভাষ্য, বগার চাঁদা আদায়কারী কর্মীদের সঙ্গে বিরোধ মীমাংসার জন্য হৃদয়কে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
ওয়াকিল হোসেন বগা ‘বিহারি বগা’ নামেও পরিচিত। নগরের ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় তার বাসা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে এবং পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে।
অপরাধকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৮ জুন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দল থেকে বহিষ্কারের পরও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।