জেলা প্রতিনিধি:
বাস শ্রমিক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের বিরোধের জেরে প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর নওগাঁর অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়।
এর আগে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। যানবাহন সংকটের সুযোগে কিছু ছোট যানবাহনের চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে রিকশা, ভ্যানসহ বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
মান্দাগামী যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, প্রশাসনের সমঝোতায় যান চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু এই কয়েক ঘণ্টার ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, সংঘর্ষ হয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে, অথচ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।
সাপাহারগামী যাত্রী তুলি কাজী বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে এভাবে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন জানান, যান চলাচল বন্ধ থাকায় তিন দফায় বিকল্প যানবাহনে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয়েছে অনেক।
পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং একটি বাসের চালক ও সহকারীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
পরে ওই দিন বেলা ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশাচালকেরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে পরদিন রোববার সকাল থেকে নওগাঁ থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট ও বগুড়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাস বন্ধের পাশাপাশি সড়কে অটোরিকশা চলাচলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বাসশ্রমিকদের বিরুদ্ধে। বাধা উপেক্ষা করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করা চালকদের ওপর হামলার অভিযোগও পাওয়া যায়।
গত সোমবার রাতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে অটোরিকশাচালকদের পক্ষ থেকে বাসচালকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকাল থেকে আবারও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবহন শ্রমিক নেতা, অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সমঝোতার পর বুধবার বিকেল ৪টা থেকে বাস ও অটোরিকশা চলাচল শুরু হয়।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে বাস মালিক সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি শ্রমিকদের আন্দোলন ছিল। শ্রমিকেরা তাদের দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন এবং প্রশাসনও তাদের দাবির বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এরপর শ্রমিকেরা গাড়ি চালানো শুরু করেছেন।
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুল হক বলেন, শ্রমিকদের নির্দিষ্ট দাবি ও শর্ত সাপেক্ষে যান চলাচল শুরু হয়েছে। যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে বাস ও সিএনজির মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্বে সিএনজি ও বাস স্টেশন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নির্দিষ্ট সময় মেনে চলাচল করবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে বা আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।