নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের মাদারগঞ্জে অবস্থিত জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে জুনিয়র এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পঞ্চম পর্বের দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হোস্টেল সিট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একাডেমিক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইনস্টিটিউটের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী মো. তানভীরের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয় এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আচরণ প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, হোস্টেল বিধিমালা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হোস্টেল বিধিমালার ২৮ ও ৩১ ধারা অনুযায়ী পঞ্চম পর্বের শিক্ষার্থী মো. কামরুজ্জামান এবং রবিউল ইসলাম অন্তরের আবাসিক সিট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হোস্টেল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, নির্দেশনা জারির পরও অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী এখনো হোস্টেল ছাড়েননি।
এদিকে জামালপুর জেলা ছাত্রদল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন মো. কামরুজ্জামানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতোমধ্যে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এখনো হোস্টেল ত্যাগ করেনি। তারা দ্রুত স্বেচ্ছায় হল না ছাড়লে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। শিক্ষাঙ্গনের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং, শারীরিক নির্যাতন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা বন্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান ইতিবাচক বার্তা দেবে। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তে দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।