কুমিল্লা বরুড়া শিক্ষা বিপ্লবের রূপকার অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলন

মোঃআনজার শাহ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার উন্নয়ন ইতিহাসে যাঁদের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়, তাঁদের অন্যতম সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলন। শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে তাঁর উদ্যোগ আজও বরুড়াবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। বিশেষত পয়ালগাছায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের কাছে একটি যুগান্তকারী উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রাজনৈতিক ও শিক্ষাজীবন:
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলন। পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন।
১৯৪৯ সালের ২০ জুলাই জন্মগ্রহণকারী ড. মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (সম্মান), এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই শিক্ষাবিদের পরিচিতি পরবর্তীতে তাঁর রাজনৈতিক জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

কারিগরি শিক্ষার স্বপ্নপূরণ:
উন্নয়ন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, “মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ছাড়া একটি অঞ্চলকে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সেই ভাবনা থেকেই বরুড়ায় আধুনিক টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছি। আজ যখন শিক্ষার্থীরা আধুনিক পরিবেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করছে, তখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আনন্দ আরও গভীরভাবে অনুভব করি।”
তিনি আরও জানান, “২০২১ সালে বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা এলাকায় বরুড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এখানে প্রি-ভোকেশনাল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। সরকারের কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

আধুনিক অবকাঠামোয় সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠান:
প্রায় ১.৭০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা বরুড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ বর্তমানে উপজেলার অন্যতম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চারতলা প্রশাসনিক ভবন, পাঁচতলা একাডেমিক ভবন, অত্যাধুনিক ওয়ার্কশপ, বিজ্ঞানাগার, মাল্টিমিডিয়া কম্পিউটার ল্যাব, সুবিশাল খেলার মাঠ, প্রশিক্ষণ গ্রাউন্ড, অডিটোরিয়াম, কনফারেন্স কক্ষ, শিক্ষক কমনরুমসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসম্মত অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করেছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার:
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এমন একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান বরুড়ার শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গ্রামাঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা এখন নিজ এলাকায় থেকেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, বরুড়ার উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষাখাতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলনের উদ্যোগ আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন-ভাবনা বরুড়ার অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ও উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গির জন্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মিলনের নাম বরুড়ার শিক্ষা ও উন্নয়নের আলোচনায় আজও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বরুড়ার উন্নয়নের পথকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *