স্টাফ রিপোর্টার :
মেহেরপুরে টিন ও ব্যারেল ব্যবসার আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই ব্যবসায়ীর মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সম্প্রতি উকিল নোটিশের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
অভিযোগকারী মোঃ বকুল মিয়া, প্রোপাইটর—বি এস ট্রেডার্স, গ্রাম ঝাউবাড়িয়া কলপাড়া, ডাকঘর উজুলপুর, থানা–জেলা: মেহেরপুর—দাবি করেছেন যে, ব্যবসায়িক লেনদেনের বিপরীতে তিনি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার ৪২১ টাকা মোঃ রিপন ইসলাম এর নিকট থেকে পাওনা আছেন।
এই দাবির প্রেক্ষিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে তার আইনজীবী এডভোকেট সেলিম রেজা গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রিপন ইসলামের নিকট একটি উকিল নোটিশ পাঠান। নোটিশে জানানো হয়, মেহেরপুর জেলা কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৬২৪৩৩০০০০৭৭ নং হিসাবে CD – AC ১৫৪৮৮১০ নম্বরে ২৫.৭৩.৪২১/-একটি চেকে উক্ত টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে তা উপস্থাপন করা হলে সেটি ‘ডিজ অনার’ হয়, ১-০৯-২৫ তারিখে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোঃ রিপন ইসলাম, পিতা মৃত তাজুল ইসলাম, গ্রাম বামুন্দি চ্যারাকি পাড়া, ডাকঘর বামুন্দি, উপজেলা গাংনী, জেলা মেহেরপুর—বকুল মিয়ার দাবিকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য ও মনগড়া’ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ছোট ভাই মৃদুল ও বকুল হোসেন জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে সাদা একটি ব্লাইন চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিল, আমি জামাতী ইসলাম দলের কর্মী ছিলাম বলে দলীয় তারা প্রভাব খাটিয়ে ১-১ ২০২৪ শে জোরপূর্বক ভাবে আমার কাছ থেকে চেকটি নিয়েছিল বলে উল্লেখ মোঃ রিপন ইসলাম দাবি করেন—
মোঃ বকুল মিয়া আমার নিকট থেকে মাত্র তিন লক্ষ ৭৭৬৬৩ টাকা পাই, বাকি টাকা আমি পরিশোধ করে দিয়েছি, যার প্রমাণ আমার কাছে আছে । এর বাইরে যে অঙ্ক দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। এটি বানোয়াট অভিযোগ।”
রিপন ইসলাম আরও জানান,বকুলের অত্যাচার ও ব্যবসার স্বার্থে তিনি অভিযোগকারীকে একটি ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেছিলেন। কিন্তু সেই চেকটি অন্যায় ও অনৈতিকভাবে, অন্যের সহায়তায় কাল্পনিক অঙ্ক বসিয়ে অপব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
“এটি স্পষ্টতই আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার একটি অসাধু চেষ্টা,” বলেন রিপন ইসলাম।
তিনি দাবি করেন, প্রকৃত লেনদেন এবং পাওনার বিষয়ে তার কাছে প্রয়োজনীয় লিখিত ও ব্যাংকসংক্রান্ত প্রমাণাদি রয়েছে, যা প্রয়োজনে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের উপস্থাপিত প্রমাণ ও ব্যাংক রেকর্ড বিশ্লেষণ করেই প্রকৃত পাওনা–পাওনির বিষয়টি নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা না হলেও দুই পক্ষই প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।সেই সাথে আরও জানা যায় যে বকুল মিয়া রিপন ছাড়াও আর ৫-৬ জনের সাথে, এই ধরনের প্রতারণা ও ব্লাকমেইল করেছেন.।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী রিপন ছাড়া জহুর, মহিবুল, ও আমিরুল সহ অভিযোগ করেছেন। রিপনের দাবি যাতে করে আমি সুবিচার পাই সেই জন্য সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বিগত সরকারের আমলে আমি ব্যবসায় বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেওলিয়া ইহয়ে পড়েছি, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার আমার মত আর কোন ব্যক্তিকে বকুল যেন প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে না পারে এর জন্য আমি দাবি জানাচ্ছি, এবং যাতে করে সুবিচার পাই সেই ব্যবস্থা জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি বলে জানান ভুক্তভোগী রিপন।