টঙ্গী ও উত্তরায় হোটেলগুলোতে অবৈধ কার্যক্রমে সামাজিক উদ্বেগ

টঙ্গী ও উত্তরা এলাকায় কিছু হোটেল দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, টঙ্গীর বাজারের ‘রাজমহল’ ও ‘মঞ্জুরি’ হোটেলগুলোতে মাদক সেবন, দেহব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, এসব হোটেলে রাতে তরুণ-তরুণীদের যাতায়াত এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সচরাচর লক্ষ্য করা যায়।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই হোটেলগুলো এলাকার জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম চলছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” এলাকাবাসী জানান, হোটেলগুলোর কারণে তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি বিপন্ন হচ্ছে। মাদক সহজলভ্য হওয়ায় যুবকদের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে, যা সামাজিকভাবে উদ্বেগজনক।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোও হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছেই। টঙ্গী থানার এক কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আবশ্যক হোটেল ‘পালকি’-তে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হোটেলের পঞ্চম তলায় এই কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে ব্যবস্থাপনা রয়েছে। রাতের অন্ধকারে এটি ব্যাপকভাবে চালু থাকে। হোটেলটি বহিরাগত অতিথি ও সাধারণ আবাসন হিসেবে পরিচিত থাকলেও বাস্তবে এটি সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের মূল হোতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আওয়ামী লীগের নেতা দশর ফাহিমের নাম জড়িত।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতের অন্ধকারে হোটেলের পঞ্চম তলায় আসা-যাওয়া এমনভাবে হচ্ছে, যে সাধারণ মানুষ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শিক্ষার্থী, যুবকরা নিরাপদে চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”

উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে রাজনৈতিক প্রভাব এবং হোটেলের মালিকের পরিচিতি তদন্তকে জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে হোটেলটির কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, হোটেলের কর্মকাণ্ড শুধু সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি করছে না, পার্শ্ববর্তী এলাকায় অপরাধ প্রবণতাও বাড়াচ্ছে। অভিযোগ আছে, হোটেলে লুকিয়ে অশ্লীল অনুষ্ঠান, মাদক সেবন ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম চলেছে। একাধিক ব্যক্তি সংবাদদাতাকে বলেন, “এটি শুধু হোটেলের সমস্যা নয়, পুরো এলাকাকে অস্থিতিশীল করার দিকে এগোচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, আমরা সামাজিক আন্দোলনের পথেও যেতে বাধ্য হব।”

সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকরা হোটেল ‘পালকি’-তে চলমান কার্যক্রম বন্ধের জন্য তৎপর। তারা দাবি করেছেন, হোটেলের মালিক ও যারা এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

টঙ্গীর রাজমহল ও মঞ্জুরি হোটেল সম্পর্কেও একই অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতের বেলা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা, মাদক সেবন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়মিত ঘটছে। এলাকাবাসী বারবার প্রশাসনের নজর আনার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন। তারা বলছেন, “আমরা চাই হোটেলগুলো বন্ধ হোক, এবং এর পেছনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হোক। না হলে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে যাবে।”

সংবাদটিতে উঠে এসেছে যে, হোটেলগুলো শুধুমাত্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকায় সামাজিক ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকির কেন্দ্র। প্রশাসনিক তৎপরতা না থাকলে, এলাকায় অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে। তাই স্থানীয়রা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *