টাঙ্গাইলে বাঁশের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী হামলা, নারীসহ আহত ৫

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেশব মাইঝাইল এলাকায় বাঁশের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করেছে।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতে সি.আর. মামলা নং- ৯৬২/২০২৬ দায়ের করেন মোছাঃ আখি (৩৮)। মামলায় ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- মোঃ কামরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, মোঃ আহাদ মিয়া, মোঃ আওয়াল, মোঃ আবদুল্লাহ ও মোছাঃ হামিদা। সকলের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কেশব মাইঝাইল এলাকায়।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে বাদী আখি তার বাড়ির পেছনে পূর্বের ন্যায় বাঁশের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এসময় আসামিরা বেড়া নির্মাণে বাধা প্রদান করে এবং ঘটনাস্থলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ১নং আসামি কামরুল ইসলাম ধারালো রামদা দিয়ে বাদীর মা সূর্যবানুর মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। তার মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এখনও তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাদী আখি তার মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ২নং আসামি আবুল কালাম আজাদ ধারালো দা দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার ডান হাতের তালুতে গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে প্রায় ৬টি সেলাই দেওয়া হয়।

এছাড়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় ৩নং আসামি বাদীর গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। একই সময় ৬নং আসামি বাদীর ব্যবহৃত Redmi Note 11 মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

বাদীর বোন নাসিমা আহতদের রক্ষা করতে গেলে ৪ ও ৫নং আসামি তাকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে মামলায়। পরে বাদীর পিতা এগিয়ে এলে তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে সূর্যবানুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার দাবি করেছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর আসামিরা বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করে।

বাদীপক্ষের দাবি, থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় তারা প্রথমে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে ব্যর্থ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের কাছে সংশ্লিষ্ট থানাকে মামলা রুজু করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *